দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুমন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশ থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের বাবা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর জেলার বাসিন্দা। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। চালক সুমনের সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়। অটোরিকশায় ওঠার পর কিছু দূর গিয়ে তাজমিন চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনে।
এরপর শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজার হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে থামায় সে। জায়গাটি রেসকোর্স নয় বুঝতে পেরে তাজমিন ভীত হয়ে চালককে কোথায় আনা হয়েছে জানতে চায়। তখন সুমন তাকে জানায়, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা।
পুলিশ জানায়, তাজমিন অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন তার গামছা গলায় পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে উপুড় করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখে চলে যায় সে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর সুমন স্থানীয় কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করে। পরে ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যায়। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে তাজমিনের আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যায়। পরদিন ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যে আই